ঢাকাWednesday , 29 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৯৩৮০০০ কোটি টাকার বাজেট: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ

UttorbongoBD
June 11, 2026 3:00 am
Link Copied!


দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ফিরে এসেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। রাজনৈতিক নেতৃত্বেও এসেছে বড় পরিবর্তন। সরকারপ্রধান তারেক রহমান। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক প্রতীক্ষার পর ক্ষমতায় এসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটি।

কিন্তু সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতির বাস্তবতা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, দুর্বল ব্যাংক খাত, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেই সরকারকে তার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতায় আজ বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে– ‘অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও বিনিয়ন্ত্রণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অভিযাত্রায় বাংলাদেশ’। তবে বাজেটের আকার যত বড়, তা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও ততটাই গভীর বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

কর ঋণের ওপর দাঁড়িয়ে বিশাল বাজেট

প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর অর্থায়ন কাঠামো। সরকারের লক্ষ্য প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা। কিন্তু চলতি অর্থবছরেই রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে নতুন অর্থবছরে এত বড় রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যকে অনেক বিশেষজ্ঞই অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী হিসেবে দেখছেন।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। ইতোমধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে। এতে নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ সরকার অর্থনীতিকে চাঙা করতে যে ব্যয় বাড়াতে চাইছে, সেই ব্যয়ের অর্থ জোগাড়ের পদ্ধতিই আবার অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উচ্চাভিলাষ

সরকার আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চায়। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। কারণ বর্তমানে শিল্প উৎপাদন, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।

সরকারের ধারণা, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে। কিন্তু সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে শুধু বাজেট ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নীতিগত স্থিতিশীলতা ও দ্রুত বাস্তবায়ন সক্ষমতা।

সৃজনশীল অর্থনীতির নতুন রূপরেখা

এবারের বাজেটের অন্যতম নতুন দিক হলো ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অংশ করা। প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা, স্টার্টআপ, ডিজিটাল কনটেন্ট, সংস্কৃতি এবং জ্ঞানভিত্তিক শিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।

বাজেটে নতুন ব্যবসা, নতুন ধারণা এবং নতুন প্রজন্মকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতিকে উৎপাদনমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিনিয়ন্ত্রণ’ নীতির মাধ্যমে সংস্কারের বার্তা

সরকার প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ‘ডিরেগুলেশন’ বা ‘বিনিয়ন্ত্রণ’ ধারণাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্ব বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ বিনিয়োগের অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করেছে। সেসব সমস্যার সমাধান হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনগণের জন্য স্বস্তির বার্তা

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা জনগণের জন্য কিছু স্বস্তির উদ্যোগও থাকছে বাজেটে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, মাছ, মাংস, আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকার আশা করছে, এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু কর কমালেই বাজারে পণ্যের দাম কমবে না; কার্যকর বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নও জরুরি।

সামাজিক নিরাপত্তায় বড় বরাদ্দ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ এবং ‘হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি।

সরকারের বিশ্বাস, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই কর্মসূচিগুলো দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এসব কর্মসূচির সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং বাস্তবায়ন ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ওপর।

উন্নয়ন ব্যয়ে রেকর্ড পরিকল্পনা

বাজেটে তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সরকারি ব্যয় আরও বাড়বে, যা রাজস্ব সংগ্রহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

ভর্তুকি প্রণোদনার বড় অঙ্ক

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও কৃষি খাতে সহায়তা অব্যাহত রাখতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ এক লাখ ২৭ হাজার ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্য অস্থির থাকায় সরকার এই ব্যয়কে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য মনে করছে। তবে ভর্তুকির এই বড় অঙ্ক বাজেট ঘাটতির চাপও বাড়িয়ে তুলবে।

রাজস্ব আদায়ে বাস্তবতার প্রশ্ন

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খানের মতে, মানুষের আয় কমেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য চাপের মধ্যে রয়েছে এবং নতুন করদাতা সৃষ্টিতে তেমন অগ্রগতি হয়নি। ফলে একই করদাতারা বারবার করের বোঝা বহন করছেন।

অন্যদিকে, রাজস্ব বিশ্লেষক স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে এত বড় রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। করভিত্তি সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ, কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের ওপর জোর দিতে হবে।

শিক্ষা স্বাস্থ্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

প্রস্তাবিত বাজেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৪৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

এটি সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তবে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বনাম অর্থনৈতিক বাস্তবতা

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বিএনপি সরকারের জন্য শুধু একটি অর্থনৈতিক দলিল নয়; এটি নতুন সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, অর্থনৈতিক অঙ্গীকার এবং প্রশাসনিক সক্ষমতারও প্রথম বড় পরীক্ষা।

বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো নতুন ধারণা রয়েছে। এগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, বড় বাজেট ঘাটতি, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং দুর্বল অর্থনৈতিক বাস্তবতা সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

অবশেষে এই বাজেটের সাফল্য নির্ধারিত হবে ঘোষণার আকারে নয়, বাস্তবায়নের সক্ষমতায়। কারণ বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন যাত্রার দিকনির্দেশনা।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html