ঢাকাMonday , 15 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরান-মার্কিন চুক্তি কি মেনে চলবে ইসরায়েল


June 15, 2026 6:55 pm
Link Copied!


১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে একটি ‘বড় ধরনের চুক্তি’র ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান ও ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় অবিলম্বে সব ধরনের বৈরিতা ও সামরিক অভিযান বন্ধ হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তির মধ্যে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে সামরিক অভিযান স্থগিতের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে লেবাননের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। ইরানের লিগ্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি জানান, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আগামী ৬০ দিন ধরে এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, এই চুক্তিটি সফল করার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অত্যন্ত কৃতজ্ঞ’ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি গত রবিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলার তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, এই হামলার কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তেই যেতে বসেছিল।

ইসরায়েল কি চুক্তি মেনে চলবে?

বিষয়টি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস এখনও তাদের ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটি প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি চুক্তির যে বিবরণ প্রকাশ করেছে, তা স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়া যাচাই করতে পারেনি।

ইরান দাবি করেছে যে চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের অধিকৃত বিশাল এলাকা থেকে তাদের সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে কি না, তা জানা যায়নি। গত মার্চের শুরু থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তবে সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং আমি একটি স্পষ্ট নীতি অনুসরণ করছি, যার অধীনে সীমান্ত এবং ইসরায়েলি জনপদগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে লেবানন, সিরিয়া এবং গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলে আমাদের সামরিক বাহিনী অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈরুত হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুর ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ফোনে আলাপকালে ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের বলেন, ‘বিবি (নেতানিয়াহু) কেন এই ফালতু হামলাটি করতে গেলো? আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম এবং তাকে তা জানিয়েও দিয়েছি। তার কোনও বিচারবুদ্ধি নেই।’

ট্রাম্প আরও জানান, এই হামলার কারণে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে।

ইসরায়েলের হারেৎজ পত্রিকার কলামিস্ট গিডিয়ন লেভি বলেন, এই চুক্তি অত্যন্ত ভঙ্গুর। ইসরায়েল এখনও লেবাননে রয়েছে এবং সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সেখানে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি’ সম্ভব নয়। এই খেলায় ইসরায়েলের কেবল ক্ষতিই হয়েছে।

ইসরায়েলের ভেতরে নেতানিয়াহুর সমালোচনা

এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে নিজ দেশেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। রাজনৈতিক অঙ্গনের উভয় পক্ষের বিরোধীরাই দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ যুদ্ধে ইরানকে দমনে ইসরায়েল তার মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। গিডিয়ন লেভি বলেন, ইসরায়েলে এটিকে ইসরায়েলের পরাজয় এবং নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ইরান ছিল নেতানিয়াহুর জীবনের মূল রাজনৈতিক প্রজেক্ট, অথচ এই আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হয়েছিল।

ইসরায়েলের মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এই চুক্তিকে ‘বহু বছরের ব্যর্থতার চূড়ান্ত রূপ’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে উগ্র ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা এই চুক্তির অংশীদার নই, এটি আমাদের নিরাপত্তা রক্ষা করে না। আমাদের যোদ্ধারা লেবাননের যে অঞ্চলগুলো দখল করেছে, তা থেকে আমরা কোনোভাবেই পিছু হটব না।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে চুক্তিতে কোনও উল্লেখ নেই।

ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ভবিষ্যৎ

মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ১৪ দফার খসড়া চুক্তিতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক বিষয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিটি ইরানকে এমন একটি স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সীমাবদ্ধ রাখবে যা কখনোই সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না।

সাধারণত পারমাণবিক বিদ্যুতের জন্য ৩ থেকে ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন হয়, আর অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন ৯০ শতাংশ। ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যা থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছানো অনেক সহজ। এই মজুত নিয়ে কী করা হবে, সেটাই ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মূল দ্বিমত। ট্রাম্প অবশ্য সতর্ক করেছেন, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

তবে একটি বড় বিষয় হলো, পূর্বে ট্রাম্প ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস করার এবং হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করার দাবি জানালেও, মেহরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনার এজেন্ডা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে তা হবে ওয়াশিংটনের এক বিশাল পিছুটান।

হরমুজ প্রণালি ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ছিল ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সবাইকে অভিনন্দন! আমি হরমুজ প্রণালি টোল-মুক্তভাবে খুলে দেওয়ার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সঙ্গে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি।’

মেহর জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং ইরানের চারপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এই পথটি কেবল ‘মাইন অপসারণের উদ্দেশ্যে’ খোলা হবে।

টাফটস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রকফোর্ড উইটজ বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে।

এদিকে ইরানের ফার্স নিউজ জানিয়েছে, আলোচনার শেষ মুহূর্তে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে ‘সামুদ্রিক সেবা শুল্ক’ বা ফি আরোপের বিষয়টি যুক্ত করেছে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, ‘সামুদ্রিক সেবা’ শব্দবন্ধটি ব্যবহারের অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে যে ইরানকে এই ফি বা শুল্ক প্রদান করা হবে।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অবরুদ্ধ তহবিল

মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, খসড়া চুক্তিতে ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা বলা হলেও, ব্যাংকিং খাতের মতো বিস্তৃত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না। ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ইরান যদি দেশের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমনপীড়ন চালায়, তবে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার নাও করা হতে পারে। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাজ্যের নেতারাও এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পুরোপুরি নির্ভর করবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতির ওপর।

অন্যদিকে, মেহর জানিয়েছে যে ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন বিদেশের মাটিতে আটকে থাকা ইরানের ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) মার্কিন ডলারের অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত করার কথা খসড়াতে রয়েছে। এমনকি এই তহবিলের অর্ধেক বা ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, চুক্তি সই হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব অর্থ ছাড় করা হবে না, বরং এটি ইরানের শর্ত মানার ওপর নির্ভর করবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের শত কোটি ডলারের তহবিল ছেড়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে বলে রয়টার্স সংবাদ প্রকাশ করলেও, পরবর্তীতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা অস্বীকার করে। একটি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এই ব্যবস্থার ফলে ইরান দাবি করতে পারবে যে তারা যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে, আর ওয়াশিংটন দাবি করতে পারবে যে তারা কোনও অর্থ দেয়নি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির সুবাতাস

চুক্তির খবরের পর সোমবার সকালে বিশ্ব আর্থিক বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৪ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্যতম সর্বনিম্ন। যুদ্ধের সময় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোও ১ থেকে ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এএনজেড ব্যাংকিং গ্রুপের এশিয়া রিসার্চের প্রধান খুন গোহ বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমবে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের প্রভাব সহজে কাটবে না। কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি পুরোপুরি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে আরও বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে।

সূত্র: আল জাজিরা





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html