দরজায় কড়া নাড়ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আর মাত্র দুদিন পর ঢাকায় শুরু হওয়ার কথা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। অথচ রাজধানীতে টুর্নামেন্টের আয়োজন ঘিরে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। নেই প্রচার-প্রচারণার ছাপ, হয়নি ট্রফি উন্মোচন, এমনকি আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনও। মাঠের বাইরের এই নীরবতার আড়ালে আয়োজক সাফ ও স্বাগতিক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মধ্যে চলছে এক ধরনের ঠাণ্ডা লড়াই।
সোমবার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে প্রথম দল হিসেবে ঢাকায় এসেছে ভুটান। কিন্তু তাদের আগমনের খবরও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। অন্য দলগুলো কবে আসবে, কোন মাঠে অনুশীলন করবে এসব বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। এর মধ্যে ম্যাচের টিকিটের দাম ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করায় সমালোচনা আরও বেড়েছে। সাধারণত বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। এবার যেন তার উল্টো চিত্র।
ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ। অথচ স্টেডিয়ামের বাইরের দৃশ্য দেখলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন যে চলছে, তা বোঝার উপায় নেই। নেই ব্যানার, ডিজিটাল বোর্ড কিংবা টুর্নামেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো দৃশ্যমান প্রচারসামগ্রী।
অথচ ২০১৮ কিংবা ২০০৩ সালে ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন ছিল বর্ণাঢ্য। কিন্তু এবার সেই আয়োজনের ছিটেফোঁটা দেখা যাচ্ছে না কেন? জানা গেছে, স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ৫০ লাখ টাকা দিয়েছে সাফ। ঢাকায় পুরো আয়োজন নিজেদের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন করতে বাফুফের সঙ্গে চুক্তিও করেছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফলে আপাতত দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাফুফে।
সাফের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘এবার সাফ নিজেরাই সবকিছু করছে। আমাদের কথা সেভাবে শুনছে কম। যাই জিজ্ঞেস করি, ওরা বলে- সব সময়মতো হয়ে যাবে। এদিকে খেলা শুরু হতে আর দুই দিন বাকি, অথচ বাইরে থেকে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাচ্ছি না। আমরাও এ নিয়ে সেভাবে খুশি নই। সাফ আমাদের বড় আসর। অথচ আয়োজনে খামতি থাকলে কীভাবে হবে?’
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন সাফ কর্তৃপক্ষকে। তার ভাষায়, ‘এর জন্য সাফ অফিস এবং তাদের সহযোগীরাই দায়ী ভাই। আপনি তো সাফ সভাপতিকে চেনেন। তাহলে মিডিয়া কখনও তাকে জিজ্ঞেস করে না কেন? আমাদের কাছে লিখিত চুক্তি আছে, যেখানে দেখানো হয়েছে যে সবকিছু সাফের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এমনকি স্টেডিয়ামটিও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে সাফ ভাড়া নিয়েছে।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এমন অব্যবস্থাপনায় বিরক্ত সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন নিজেও। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। শুধু বলেছেন, ‘আমি নিজেও সাফের আয়োজন নিয়ে বিরক্ত। কার দোষ দেবো এখানে? আগে তো এমনটি হয়নি। আমি আর মন্তব্য করতে চাই না।’
জানা গেছে, সাফ যাতে নিজেদের মতো করে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করতে পারে, সে জন্য একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের আয়োজনের অভিজ্ঞতা প্রায় নেই বললেই চলে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে বাফুফের একজন সহসভাপতি ও একজন সদস্যের ভূমিকা রয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। অথচ টুর্নামেন্টের স্বাগতিক যে বাংলাদেশ- এই বাস্তবতা যেন আয়োজনে সংশ্লিষ্ট অনেকেরই মাথায় নেই!