মীরসরাইয়ে তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণে আবারও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর প্লাবিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্কুল-মাদ্রাসায় যাওয়া-আসায় কষ্ট করতে হচ্ছে।
রবিবার (৫ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে। তখন থেকে প্লাবিত হয় বিভিন্ন এলাকা। বৃষ্টি বন্ধ না হলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াহেদপুর এলাকার বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্যারাগন ফিডমিলের কারণে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি বের হতে পারছে না। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। মূলত এই ফ্যাক্টরির কারণে শত শত মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
টানা বৃষ্টিতে দিনমজুর, কৃষক, রিকশাচালক ও অটোরিকশা চালকরা আয় রোজগার না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে। টানা তিন দিন বৃষ্টিতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ভ্যান-রিকশাচালক, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। বৃষ্টিতে কাজ না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষদের। দুর্ভোগে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার পোলমোগরা, সৈদালী, ইছাখালী এলাকায় কিছু গ্রামের মানুষ।
মীরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে আউশের চারা কিছু ডুবে গেছে। এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।’
মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে উপজেলার কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে একাধিক এলাকা পরির্দশন করেছি। আশা করছি, বৃষ্টি বন্ধ হলে পানি নেমে যাবে। কেউ যদি জলাবদ্ধতায় পানিবন্ধি হয়ে থাকে, আমাদের তালিকা পাঠালে শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।’