ঢাকাFriday , 31 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘ভিআইপি’ স্টিকারের আড়ালে ইয়াবা নিয়ে যাচ্ছে কারা?


July 31, 2026 10:15 am
Link Copied!


বাংলাদেশ-মিয়ানমার কক্সবাজার সীমান্তে সীমাহীনভাবে বেড়েছে ইয়াবা পাচার। নিত্যনতুন কৌশলে প্রতিদিন দেশে ঢুকছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের ইয়াবা। বিশেষ করে সড়কপথে বিলাসবহুল গাড়িতে নানা কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে বড় বড় চালান। গত ১৫ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকারে করে ইয়াবা পাচারের সময় তিন সদস্যের একটি চক্রকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। তাদের কাছ থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সড়কপথে ইয়াবা পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি। কেউ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করছে, আবার কেউ মন্ত্রণালয়ের, সেনাবাহিনীর, আইনজীবী কিংবা রাজনৈতিক দলের লোগো, ভুয়া পরিচয়, পর্যটকের ছদ্মবেশ এবং গাড়ির ভেতরে তৈরি করা গোপন চেম্বার তৈরি করে পাচার করছে ইয়াবা। 

সর্বশেষ ২৭ জুলাই টেকনাফ হোয়াইক্যং বিজিবির চেকপোস্টে এক লাখ ছয় হাজার পিস ইয়াবাসহ বিলাসবহুল একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেছেন বিজিবির সদস্যরা। এ সময় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকার সাইফুল ইসলাম খোকন নামে একজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচারের পুরোনো পথ এখন পুরোপুরি সক্রিয়। সেইসঙ্গে নতুন নতুন পথও যুক্ত হয়েছে। বদলে গেছে পাচারের কৌশলও। কিছুদিন সমুদ্রপথে পাচার বাড়লেও পরে কৌশল বদলে আবার সড়কপথে বেড়েছে পাচার। 

বাস, মাইক্রোবাস কিংবা মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ইয়াবা পাচারের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হয়ে উঠছে প্রাইভেটকার ও ভিআইপিদের বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ি। জুলাই মাসেই কক্সবাজার, রামু ও উখিয়ায় পৃথক চারটি অভিযানে প্রাইভেটকার থেকে লক্ষাধিক ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এসব ঘটনায় একাধিক পাচারকারী গ্রেফতার হলেও তদন্তে উঠে আসছে সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের সক্রিয়তার ইঙ্গিত। যারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সড়কপথে ইয়াবা পাচারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ি

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর মডেল থানা পুলিশ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগানো একটি বিলাসবহুল টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিটের নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। 

পুলিশ জানায়, গাড়িটি থামানোর সংকেত দিলে চালক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে গাড়িটি আটক করা হয়। এ ঘটনায় সাবেক সেনাসদস্য ওবায়দুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। গাড়িতে ইয়াবা থাকার বিষয়ে তিনি অস্বীকার করলেও পুরো ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

এর একদিন আগে উখিয়ার শীলখালী এলাকায় ৬৪ বিজিবির চেকপোস্টে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামগামী একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ইঞ্জিনের পাশে বিশেষভাবে তৈরি গোপন স্থানে লুকানো সাতটি পোটলা থেকে ১০ হাজার ৬৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা মো. ফরিদকে গ্রেফতার করা হয়। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় রামু থানা পুলিশের চেকপোস্টে নম্বরবিহীন একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে লুকিয়ে রাখা ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তখন গাড়ির চালক হোসেন আলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্যাস সিলিন্ডারকে বিশেষভাবে পরিবর্তন করে সেটিকে মাদক বহনের গোপন চেম্বারে পরিণত করা হয়েছিল, যা সাধারণ তল্লাশিতে শনাক্ত করা কঠিন। এ ছাড়াও কয়েকদিন আগে রামুর রাবার বাগান এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মিরপুর ডিওএইচএসের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকার থেকে ছয় হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুই নারীসহ তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। পর্যটকের ছদ্মবেশে চলাচলকারী এই চক্রটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে নিরাপত্তা তল্লাশি এড়ানোর চেষ্টা করেছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ইয়াবা পাচারকারীরা এখন আর একক কোনও পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে না। তারা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে। কখনও বিলাসবহুল গাড়ি, কখনও সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার, কখনও গ্যাস সিলিন্ডার, আবার কখনও ইঞ্জিনের ফাঁকা অংশ কিংবা সিটের নিচে তৈরি গোপন চেম্বার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করছে। অনেক ক্ষেত্রে নারী ও শিশু কিংবা পর্যটকের ছদ্মবেশও ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে চেকপোস্টে সন্দেহ কম হয়। 

সীমান্ত এবং মহাসড়কগুলোতে এর আগেও বিভিন্ন সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বিচারক এবং বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমের ‘প্রেস’ স্টিকার ও লোগো ব্যবহার করে দামি হ্যারিয়ার, প্রাডো বা নোয়া গাড়িতে ইয়াবার বড় বড় চালান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ বলছে, মাদক বহনের জন্য সাধারণ তল্লাশিতে ধরা না পড়ার মতো ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গাড়ির এসি প্যানেল, গ্যাস সিলিন্ডার কেটে বা সিটের নিচে ও বডিতে এমনভাবে গোপন যান্ত্রিক চেম্বার তৈরি করা হচ্ছে, যা আধুনিক স্ক্যানার ছাড়া ধরা প্রায় অসম্ভব। আবার যেকোনো সাধারণ কম্পিউটার বা প্রিন্টিং দোকান থেকে নামমাত্র মূল্যে এসব রাষ্ট্রীয় লোগো ও স্টিকার হুবহু নকল করে প্রিন্ট করা সম্ভব। কোনও ব্যক্তি আসলেই সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কিনা, তা যাচাই করার মতো স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটাল কোনও ডাটাবেজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্টগুলোতে নেই। ফলে অপরাধীরা খুব সহজেই এই সুযোগের অপব্যবহার করছে এবং গাড়িগুলোকে মাদক বহনের নিরাপদ বাহনে পরিণত করছে।

বিলাসবহুল টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিটের নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ২৮ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ

পুলিশ, বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, সরকারি বা সামরিক প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও প্রতীক ব্যবহার করে অপরাধ করা দেশের ভাবমূর্তি ও জন আস্থার জন্য একটি বড় ধাক্কা। এই নতুন কৌশল রুখতে সড়কগুলোতে এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশেষ তল্লাশি চৌকিগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে দামি গাড়ি কিংবা রাষ্ট্রীয় স্টিকারযুক্ত গাড়ি হলেও সন্দেহ হলে তল্লাশি করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই চক্রগুলোর পেছনে বড় কোনও সিন্ডিকেট, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বা নেপথ্যের অর্থদাতা জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচয় চিহ্ন ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এসব ঘটনার পেছনে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কিনা, তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সোমেন মণ্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে মাদক পরিবহন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও চেকপোস্টভিত্তিক তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। আগের ঘটনাগুলোর তদন্তও চলছে।’

এ বিষয়ে উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘প্রতিনিয়ত বিলাসবহুল গাড়িতে করে ইয়াবা পাচার বেড়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই টেকনাফ হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে এক লাখ ছয় হাজার পিস ইয়াবাসহ বিলাসবহুল একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকার সাইফুল ইসলাম খোকন নামে একজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়। সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা পাচার ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং পাচারকারীরাও ধরা পড়ছে। সন্দেহভাজন যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’

ভুয়া স্টিকার ব্যবহারের শাস্তি কী

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ফজলুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ গাড়িতে গোপন চেম্বার তৈরি করে বা অন্য কোনও অভিনব উপায়ে বাণিজ্যিক পরিমাণ (যেমন ১০ হাজার পিসের বেশি ইয়াবা) মাদক পরিবহন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (ধারা ৪১৯/৪২০/৪৬৮): রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভুয়া লোগো বা স্টিকার ব্যবহার করে অন্যের রূপ ধারণ, জালিয়াতি এবং জালিয়াতির উদ্দেশ্যে দলিল বা প্রতীক তৈরির অপরাধে অপরাধীদের অতিরিক্ত ৩ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। একইসঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়িটি স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার স্পষ্ট আইনি নির্দেশনা রয়েছে।’





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html