ঢাকাSaturday , 1 August 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চালকের দিন পার হচ্ছে সিএনজি স্টেশনেই, আয়রোজগারে ধস


July 31, 2026 10:30 pm
Link Copied!


মধ্যরাতের রাজধানীতে এখন গাড়ির লম্বা লাইন থাকে। এই লাইনগুলো সিএনজি পাম্পে। দিনের আলো থাকা অবস্থায় কেউ কেউ লাইনে দাঁড়ালেও গ্যাসের চাপ না থাকার কারণে অনেক সময় রাত অবধি অপেক্ষা করতে হয় লাইনে। লাইনের একদম সামনে দাঁড়িয়ে আছে চালক মিজানের গাড়ি। মিজান পাম্পের গেটের সামনেই গাড়ির ভেতরে সিট ফেলে ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু পাম্পের গেট বন্ধ, কারণ গ্যাসের চাপ নেই লাইনে। তার ভাষ্য, এখন অন্য পাম্পে গেলে আবার লম্বা লাইনের পেছনে দাঁড়াতে হবে। তার চেয়ে এখানে ঘুমানো ভালো, কিছু সময়ের জন্য হলেও খুলবে পাম্প, তখন সঙ্গে সঙ্গেই গ্যাস নেওয়া যাবে। আর এভাবেই একটি গাড়ির একজন চালকের দিন পার হচ্ছে শুধু সিএনজি স্টেশনেই। আয়রোজগারেও নেমেছে ধস।

সিএনজি অটোরিকশা চালক ফরিদ ঢাকা শহরে প্রায় ছয় বছর ধরে তার গাড়ি চালাচ্ছেন। খুব আক্ষেপের সুরে বললেন, এমন অবস্থায় আগে কখনও পড়ি নাই। এখন গাড়ি জমার টাকা উঠাতেই হিমসিম খেতে হয়, নিজের বেতনের চিন্তা আপাতত করতে পারছি না। গতকালও বাসায় খালি হাতে গিয়েছি। গ্যাসের সমস্যা হলে সংসারের হাড়িও খালি থাকে। 

পাম্পের লাইনে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করে গতকাল ড্রাইভারকে বিদায় দিয়েছেন মনজুর শাহরিয়ার নামে একজন ব্যাংকার। তিনি তার ড্রাইভারকে পকেট থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে বলেন ‘গ্যাস যখনই নিতে পারো, নিয়ে গ্যারেজে গাড়ি রেখে দাও। জরুরি দরকার ছাড়া গাড়ি বের করবো না।’ 

সিএনজি স্টেশনে গাড়ির সারি (ছবি: বাংলা ট্রিবিউন)

চলমান গ্যাস সংকটে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর গ্যাস পাম্পগুলোতেও। সিএনজি স্টেশনে চাপ না থাকায় যানবাহনে মিলছে না চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস।

সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। চালকেরা বলছেন, আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভাড়ায় চালিত গাড়ি চালকরা। ফলে পুরো পরিবহন খাতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর এ রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি তাদের কোনোদিন হতে হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। কোথাও সীমিত পরিসরে গ্যাস সরবরাহ চালু থাকলেও দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পাওয়ায় তাদের দৈনিক আয় কমে গেছে। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সিএনজি চালক রফিক বলেন, আগে দিনে একবার গ্যাস নিলেই সারা দিন গাড়ি চালানো যেতো। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যায় না। এতে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

তিনি বলেন, গ্যাসের এমন দুর্ভোগ আমি বিগত কয়েক বছরেও দেখিনি। এখন যেটা হচ্ছে তাতে আমাদের পেটে ভাত জুটবে না।

প্রাইভেটকার চালক আলম জানান, গ্যাসের অভাবে নির্ধারিত অনেক ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। যাত্রীদের ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে চালক ও যাত্রী উভয়ই দুর্ভোগে পড়ছেন।

পরীবাগ এলাকার সিএনজিচালক রহিম বলেন, কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরেও গ্যাস পাননি। এখন মেরুল বাড্ডায় এসে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ সময়ে সিএনজি চালালেও এমন সমস্যায় কোনোদিন পড়তে হয়নি।

তিনি বলেন, ‘গাড়ি না চললে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে।’

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে সিএনজি ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। সুযোগ বুঝে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন সিএনজি ও উবার চালকরা। বনশ্রীর বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, রাস্তায় সিএনজির সংখ্যা কম। যারা আছে আছেন তারা ভাড়াও বেশি চাচ্ছেন। বনশ্রী থেকে গুলশানের ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু আগে বনশ্রী থেকে ২০০ টাকায় যাওয়া যেতো। বাড্ডার আব্দুর রশিদ বলেন, বাড্ডা থেকে কারওয়ান বাজার আসতে পূর্বে ২০০ থেকে ২৫০ এ আসা যেতো। এখন ৩০০ এর বেশি চাচ্ছে। গ্যাস সঙ্কটের কারণে একদিকে সিএনজি কমে গেছে আর এই অবস্থায় ভাড়াও বেশি নেওয়া শুরু হয়েছে। 

সিএনজি চালক মোহাম্মদ মিল্লাত বলেন, গ্যাস-সংকট শুরু হওয়ার পর নিয়মিত অটোরিকশা চালাতে পারছেন না। দু-এক দিন গ্যাস পেলেও ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগছে। যে গ্যাস পাচ্ছেন, তা দিয়ে খরচ মিটিয়ে নিজের কিছু থাকছে না। অটোরিকশা চালালেই সংসার চলে, না চালালে চলে না। খুব সংকটের মধ্যে আছেন। যতটুকু ভাড়া পাচ্ছেন একটু বেশি না নিলে আমরাও টিকতে পারছি না।

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে সিএনজি চালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, গ্যাস নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। পেলেও দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে অল্প গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাসের চাপও কম। সারা দিন অপেক্ষা করে গ্যাস নিতে হচ্ছে। এই গ্যাস দিয়ে বেশি চলা যাচ্ছে না, তাই বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

এদিকে সিএনজির মতো উবার পাঠাওয়ের অন্তর্ভুক্ত গাড়িগুলোতেও যাত্রীরা বলছেন, অ্যাপেই ভাড়া বেশি দেখাচ্ছে। কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, রামপুরা থেকে গাবতলী গ্যাস সংকটের আগে ৩৫০ টাকার মধ্যে হয়ে যেতো। এখন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা লাগছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। যারা সিএনজি কিংবা উবারে চলাচল করে তারাও পাবলিক বাস ব্যবহার করতে শুরু করবে। এই অবস্থার দ্রুত উত্তোরণ চান তারা।

রাজধানীতে গ্যাসের সংকট দীর্ঘদিনের। গ্যাসের চাপ বরাবরই কম থাকে। তবে গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকট প্রবল আকার ধারণ করেছে। বাসায় নেই-ই, শিল্পকারখানাতেও গ্যাসের সংকট। একদিকে কাজ বন্ধ, অন্যদিকে রান্নার যুদ্ধ। গৃহস্থালির চুলা থেকে শুরু করে বিশাল শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পরিবহন খাত পর্যন্ত এই সংকটের ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করেছে; যা সার্বিক অর্থনীতিকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি। এতে চাহিদার মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে পেট্রোবাংলা।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুনের পর সৃষ্ট যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে এলএনজি থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও বর্তমানে তা ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমে ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছে; যা আগে ছিল প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। অথচ দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সরকারি তথ্য অনুযায়ী গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html