মাসের পর মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে একটি শান্তি চুক্তির কাঠামো আজ রবিবার সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই হরমুজ প্রণালি ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এত দ্রুত চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইরান।
শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, চুক্তিটি আগামীকাল (রবিবার) সই হওয়ার কথা রয়েছে। আর সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে।
অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যোগ দেবেন। সেখানে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না এবং দেশটির সরকার আর এমন অস্ত্র চায় না। তিনি আরও জানান, এই পর্যায়ে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ফিরিয়ে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, যথাযথ সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, তখন আমরা সেখানে গিয়ে গভীরে সমাহিত পারমাণবিক ধুলাবালি উদ্ধার করবো। এ সময় তিনি ইরানের কাছে থাকা শত শত কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যতে ইরান ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথাও জানান ট্রাম্প। একইসঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘চূড়ান্ত বিকল্প’ রয়েছে, যা তিনি আবার ব্যবহার করতে চান না।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরও চুক্তি সইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি তেহরান। বরং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, রবিবার চুক্তি সই হবে না।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সমঝোতা স্মারক সইয়ের নির্দিষ্ট তারিখের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে সেটি রবিবার হবে না।
তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে অপর পক্ষের অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিধার কারণে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল, অ্যাক্সিওস