ঢাকাTuesday , 21 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাইরে গেলেই কি সব সময় সানগ্লাস পরতে হবে


July 20, 2026 8:45 am
Link Copied!


রোদে বের হলেই কি সানগ্লাস পরা জরুরি? আর যারা প্রেসক্রিপশন চশমা ব্যবহার করেন, তাদের কি আলাদা করে সানগ্লাসের প্রয়োজন আছে? আজকাল এমন প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি শুধু আরাম নয়—চোখের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার সঙ্গেও জড়িত।সূর্যের আলো থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখা নিয়ে কোনও বিতর্কের সুযোগ নেই।

জনস হপকিন্স মেডিসিনের উইলমার আই ইনস্টিটিউটের চক্ষুবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক ডা. লরা ডি মেগলিও বলেন, “সানগ্লাস চোখের জন্য ঠিক সানস্ক্রিনের মতো। এটি চোখ, চোখের পাতা এবং চোখের চারপাশের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে।’’

কিন্তু যারা চশমা পরেন, তাদেরও কি এক জোড়া সানগ্লাসের প্রয়োজন আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ছানি অস্ত্রোপচার বিশেষজ্ঞ, বোর্ড-সার্টিফায়েড চিকিৎসক ডা. শেরি রোয়েন বলেন, এটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, মানুষ সাধারণত মনে করেন যে তাদের রঙিন (টিন্টেড) লেন্স দরকার, কিন্তু আপনি যদি প্রেসক্রিপশন চশমার ফ্রেম পরেন, তাহলে চোখের সুরক্ষার কিছু বিষয় এমনিতেই নিশ্চিত হয়ে যায়।

সূর্যের আলো চোখের কী ক্ষতি করতে পারে

সূর্যের আলোতে তিন ধরনের অতিবেগুনি (আল্ট্রাভায়োলেট) বিকিরণ থাকে- ইউভিএ, ইউভিবি এবং ইউভিসি। তবে এর মধ্যে শুধু প্রথম দুটি, অর্থাৎ ইউভিএ ও ইউভিবি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায়।

চোখের জন্য ইউভিবি বিকিরণকে ইউভিএ-এর তুলনায় বেশি ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়। তবে আকাশে রোদ থাকুক বা না থাকুক, এই দুই ধরনের বিকিরণই উপস্থিত থাকে এবং এগুলো আপনার দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন রোগ বা সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ছানি। এটি চোখের লেন্সে প্রোটিন জমে লেন্স ঘোলা হয়ে যাওয়ার একটি সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে। তবে ইউভি বিকিরণের কারণে ছানি আরও অল্প বয়সেই তৈরি হতে পারে বলে জানান উইলমার আই ইনস্টিটিউটের চক্ষুবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক ব্রাইস সেন্ট ক্লেয়ার।

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ম্যাকুলার ডিজেনারেশন নামের একটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকা চোখের রোগকেও আরও খারাপ করতে পারে। এই রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।

চোখকে সুরক্ষিত না রাখলে দুই ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে পারে—প্টেরিজিয়াম এবং পিঙ্গুকুলা।

পিঙ্গুকুলা সাধারণত তুলনামূলকভাবে কম গুরুতর। এটি চোখের সাদা অংশে একটি ছোট হলুদ দাগ বা সামান্য উঁচু অংশের মতো দেখা দিতে পারে। এটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে, তবে সাধারণত দৃষ্টিশক্তিতে কোনও প্রভাব ফেলে না।

তবে প্টেরিজিয়াম আরও গুরুতর হতে পারে। ডা. ডি মেগলিও বলেন, “প্টেরিজিয়াম এমন একটি সমস্যা, যা আসলে আপনার কর্নিয়ার (চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ) ওপর বেড়ে ওঠে।”

তিনি আরও বলেন, “এগুলো যদি বেশি গুরুতর হয়ে যায়, তাহলে দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।” কিছু ক্ষেত্রে এর জন্য অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।

চোখের চারপাশের অংশও ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে ত্বকের ক্যানসারের ৫ থেকে ১০ শতাংশ চোখের পাতায় তৈরি হয়।

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক কর্নিয়া, ছানি ও রিফ্র্যাকটিভ (দৃষ্টিশক্তি সংশোধন) সার্জন ডা. ড্যাগনি ঝু বলেন, “চোখের ভেতরে এবং চোখের চারপাশে প্রায় সব ধরনের কোষই পাওয়া যায়।”

তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে এলে এসব কোষের যেকোনোটি পরিবর্তিত হয়ে (মিউটেশন) যেতে পারে।”

সবশেষে আছে সৌন্দর্য বা চেহারার বিষয়। ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষিত থাকলেও—যা ত্বকের বার্ধক্যের লক্ষণগুলো দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে—তীব্র আলো আপনাকে চোখ কুঁচকে তাকাতে বাধ্য করতে পারে, আর এর ফলে বলিরেখা তৈরি হতে পারে।

ডা. সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, “চোখ কুঁচকে তাকানো হলো আপনার শরীরের স্বাভাবিক উপায়ে জানান দেওয়া যে, আপনি অতিরিক্ত আলো অনুভব করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “সানগ্লাস পরলে চোখের পেশি শিথিল থাকে, যা চোখের কোণের সূক্ষ্ম বলিরেখার মতো সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করে।”

তাহলে কি দুই জোড়া চশমার প্রয়োজন আছে

ডা. সেন্ট ক্লেয়ার ব্যাখ্যা করেন, ‘‘আপনার স্বচ্ছ প্রেসক্রিপশন চশমার ফ্রেমেও গাঢ় রঙের লেন্সের মতোই সমান সুরক্ষা থাকতে পারে।” বেশিরভাগ নির্ভরযোগ্য চশমার দোকান স্বচ্ছ লেন্সের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবেই এই সুরক্ষা প্রদান করে।

আধুনিক চশমার লেন্সগুলো প্রায়ই পলিকার্বোনেট দিয়ে তৈরি হয়, যার মধ্যে ইউভি সুরক্ষা আগে থেকেই যুক্ত থাকে। আর যেসব লেন্স পলিকার্বোনেটের নয়, সেগুলোতেও সাধারণত একটি বিশেষ আবরণ দেওয়া হয়, যা ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।

আপনার চশমায় সত্যিই সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে চাইলে সেগুলো স্থানীয় কোনও অপটিক্যাল দোকানে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন বলে জানান মিশিগানভিত্তিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং আমেরিকান একাডেমি অব অপথ্যালমোলজির মুখপাত্র ডা. এমিলি এম. শেলেইন।

ডা. রোয়েন বলেন, যদি অতিরিক্ত এক জোড়া চশমা সঙ্গে বহন করা আপনার কাছে বিরক্তিকর মনে হয়, তাহলে খুব বেশি চিন্তা করার দরকার নেই—যদি না সূর্যের আলো আপনার চোখে অস্বস্তি তৈরি করে।

তবে লেন্স রঙিন হোক বা না হোক, চশমা আপনার মুখের শুধুমাত্র একটি ছোট অংশ ঢেকে রাখে। তাই ডা. রোয়েন আরও বেশি ইউভি সুরক্ষার জন্য টুপি এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে যেসব দিনে আপনি দীর্ঘ সময় বাইরে কাটাবেন। আপনি সানগ্লাস বা সাধারণ চশমা—যেটিই কিনুন না কেন, এমন একটি লেবেল খুঁজে দেখুন যেখানে লেখা আছে ‘ইউভি৪০০’ অথবা ‘১০০ পারসেন্ট ইউভিএ/ইউভিবি প্রোটেকশন।’

এই দুটি শব্দের অর্থ মূলত একই। এগুলোর মানে হলো লেন্সগুলো ৯৯ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিবেগুনি রশ্মি প্রতিরোধ করতে পারে।

সানগ্লাসগুলো ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকে। তাই কোনও সানগ্লাসে প্রকৃতপক্ষে সেই সুরক্ষা না থাকলে সেটিকে ‘ইউভি৪০০’ হিসেবে লেবেল করা বেআইনি।

তবে সব বিশেষজ্ঞই সতর্ক করেছেন, সমুদ্রসৈকতের পাশের দোকান বা ফুটপাত থেকে কেনা ৩ ডলারের সস্তা সানগ্লাস ব্যবহার না করাই ভালো।

যেসব খুব গাঢ় রঙের লেন্সে ইউভি সুরক্ষা নেই, সেগুলো আসলে চোখের ক্ষতি করতে পারে। ডা. রোয়েন বলেন, “এগুলো শুধু আপনার চোখের মণিকে বড় করে দেয়, ফলে চোখ আরও বেশি আলো শোষণ করে।”

শেষ পর্যন্ত, আপনি দুই জোড়া চশমা সঙ্গে রাখবেন কি না, তা আপনার ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়—যতক্ষণ না আপনি এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলছেন যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো কোনও বাধা ছাড়াই আপনার রেটিনায় (চোখের অন্তর্দৃষ্টিপর্দা) পৌঁছাতে পারে।

ডা. রোয়েন বলেন, “আমাদের আলো দরকার, সূর্যের আলো দরকার, আমাদের বাইরে থাকা দরকার। কিন্তু আমাদের চোখে ইউভি রশ্মি লাগার দরকার নেই।”

বাইরে গেলেই সবার জন্য সানগ্লাস বাধ্যতামূলক নয়। তবে আপনার প্রেসক্রিপশন চশমায় ইউভি সুরক্ষা না থাকলে অথবা দীর্ঘ সময় তীব্র রোদে থাকতে হলে ভালো মানের ইউভি প্রতিরোধী সানগ্লাস ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ, আমাদের চোখের আলো দরকার, সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি নয়।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html