প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদদের নিয়ে অশালীন কটুক্তির প্রতিবাদে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর মালিটোলা পার্ক থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নয়াপল্টনে এসে শেষ হয়।
ইশরাক বলেন, “আমরা আজকে মিছিল করেছি দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যারা কুৎসিত, অশালীন, অশ্রাব্য এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের এই কথাটি মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা রাজনীতি ভুলে যাইনি, আমরা সংগ্রাম ভুলে যাইনি। আমরা আমাদের আত্মমর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার গণতান্ত্রিক অধিকার যেমন পেয়েছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সেই সংগ্রামও আমরা ভুলে যাইনি।”
তিনি বলেন, “আমরা মহান স্বাধীনতার কথা ভুলে যাইনি। কিন্তু মহান স্বাধীনতাকে হরণ করবে, আরেকজনের চরিত্র হরণ করবে, আরেকজনের মহান স্বাধীনতার গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করবে— সেটা আমরা কোনোভাবে মেনে নেবো না।”
ইশরাক হোসেন বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বাকশালকে বাতিল করে আমাদের বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বৃহত্তর গণতন্ত্র চালু করেছিলেন।”
গণতান্ত্রিক কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক যেকোনও কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের নবাগত কিছু তরুণ একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। আমরা সেটাকে সাদরে গ্রহণ করেছি। তাদের অনেকে আমাদের সঙ্গে সংসদেও রয়েছেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি সম্পর্ক রয়েছে।” আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তাদের ভেতর কিছু বেয়াদব আছে, যে বা যারা বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক পরিবেশটিকে বিনষ্ট করে প্রকৃতপক্ষে পরাজিত খুনি হাসিনার স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে যদি শান্তি এবং গণতান্ত্রিক যে সুসম্পর্ক থাকার কথা সেটি যদি বিনষ্ট হয়, সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে খুনি, স্বৈরাচার, হত্যাকারী হাসিনার।”
ইশরাক হোসেন বলেন, “অতীতে যারা আওয়ামী লীগ করেছে, গুপ্তভাবে রাজনীতি করেছিলেন, আজকে এসে বিপ্লবী হয়ে গিয়েছেন— আপনারা গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলেন। কোনও ধরনের অরাজনৈতিক এবং অশালীন মন্তব্য আপনারা যদি আমাদের নেতার বিপক্ষে করেন, প্রতিবাদ করবোই এবং তার প্রতিবাদে আজকে আমরা বিক্ষোভ করেছি।”
আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যদি এটা চলতে থাকে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবো। আমরা কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী একটি কথা আমাদেরকে বলেছেন— রাজনীতি ভুলে গেলে চলবে না। সরকারের আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে। কিন্তু রাজপথের রাজনীতি, জনগণের রাজনীতি, জনগণের অধিকার, গণতান্ত্রিক রাজনীতি— এটিকে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।”
তিনি নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আমাদের সব কর্মসূচিকে রাজপথে সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের যে জনগণের ভিত্তি রয়েছে, জনভিত্তি রয়েছে, সেটা পুঁজি করে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাল্লাহ।”
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রিন্টু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য শরীফ হোসেন, আকতার হোসেন, হাজী নাজিম, উজির হোসেন উজ্জ্বল, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শামীম মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূঁইয়া। আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানা ইয়াসমিন ডলি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক মুকিতুল আহসান রঞ্জু, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদারসহ অন্যান্য নেতারা।