দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছে দেশের হকি অঙ্গন। দায়িত্বে এসেই একগুচ্ছ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি। খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, বিদেশি কোচ নিয়োগ, ইউরোপ সফর এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর বিশেষ কর্মশালার মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জাপানে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে জার্মানির অভিজ্ঞ কোচ গেরহার্ড পিটারকে উড়িয়ে এনেছে ফেডারেশন। শুধু ছেলেদের দলই নয়, বয়সভিত্তিক দলের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা এবং মেয়েদের জাতীয় দলের জন্য হংকং থেকে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত আরিফ আলীকে আনছে বিএইচএফ।
আগামী ১২ আগস্ট আশরাফুলদের পাঠানো হচ্ছে ইউরোপ সফরে। সেখানে জার্মানির জাতীয় দল ও শক্তিশালী ক্লাব দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে জাতীয় দলের, যা তাদের বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা অর্জনে মূল ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে বদলে গেছে খেলোয়াড়দের আবাস ও খাবারের মান। মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের হোস্টেল সংস্কার করে এসিসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে এবং মেন্যুতে রাখা হয়েছে মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার। পাশাপাশি খেলা চলাকালীন কিংবা বড় দলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাটাতে শনিবার থেকে করপোরেট ট্রেনার দিয়ে শুরু হচ্ছে ‘স্পেশাল পারফরম্যান্স ওয়ার্কশপ’।
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক এ প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স বাড়াতে যা যা করা দরকার, আমরা করছি। শেষ দিকে খেই হারিয়ে ফেলা কিংবা বড় দলের বিপক্ষে মানসিক দ্বিধা কাটাতে মাঠের অনুশীলনের পাশাপাশি ট্রেনার দিয়ে পারফরম্যান্স ওয়ার্কশপ করা হচ্ছে। খেলোয়াড়েরা যেন দেশের জন্য সেরা ফলাফল বয়ে আনতে পারে, সেটাই আমাদের চাওয়া।”
আগের কমিটি বয়সের অজুহাতে রাসেল মাহমুদ জিমির মতো তারকা খেলোয়াড়দের বাদ দিয়েছিল। তবে বর্তমান কমিটি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ইশতিয়াক সাদেক স্পষ্টভাবে বলেন, “আমাদের কাছে বয়স নয়, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সই মুখ্য। বয়সের অজুহাত দেখিয়ে কাউকে বাদ দেওয়া হবে না, যারা ভালো খেলবেন তারাই সুযোগ পাবেন।”
জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া হকি সচল করতে খুব শিগগিরই প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ এবং বছর শেষে কাঙ্ক্ষিত প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ফেডারেশন।
বাংলাদেশের প্রয়াত ক্রীড়া কিংবদন্তি এবং আবাহনীর প্রথম ফুটবল অধিনায়ক ও হকি সংগঠক আব্দুস সাদেকের বড় ছেলে ইশতিয়াক সাদেক বাবার স্মৃতি ও স্বপ্নকে সামনে রেখে হকিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চান। তিনি বলেন, “বাবার সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ দেখে বড় হয়েছি। হকি নিয়ে বাবার অনেক বড় স্বপ্ন ছিল। সবার সহযোগিতায় সম্ভাবনাময় এই খেলাটিকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয় দলের আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অনুশীলন ও নানা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে এখন মাঠের পারফরম্যান্স নিয়েও নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠছেন দেশের ক্রীড়ামোদী ও হকি সংশ্লিষ্টরা।