সম্পূরক বাজেটকে ‘দুর্নীতি আর অপচয়ের’ ফল বলে মন্তব্য করেছেন নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তিনি বলেন, ‘সম্পূরক বাজেট যেটা দেওয়া হয়েছে তার মূল হচ্ছে দুর্নীতি আর অপচয়। আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে, খায়-দায় জব্বার মোটা হয় আব্বাস। যার কারণে আজকের এই সম্পূরক বাজেট।’
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ওবায়দুল্লাহ সালাফী বলেন, ‘সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা বাজেটের জায়গায় আছে, আমরা আমাদের জায়গায় আছি—দৃশ্য দেখে তাই মনে হচ্ছে। আমাদের সম্পূরক বাজেট যেটা দেওয়া হয়েছে তার মূল কারণ হচ্ছে দুর্নীতি আর অপচয়। আমাদের দেশে একটা প্রবাদ আছে, খায়-দায় জব্বার মোটা হয় আব্বাস, যার কারণে আজকের এই সম্পূরক বাজেট।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে সরকারি মাল দরিয়ামে ঢাল। আমাদের রেভিনিউকে বাংলা ভাষায় রাজস্ব আয় বলা হয়ে থাকে। রাজস্ব মানে রাজার নিজের, জনগণের নয়। যার কারণে ফ্রি স্টাইলে ইচ্ছামতো যার যেভাবে মন চায়, সেভাবে এই টাকা খরচ করবে, ব্যয় করবে। তারপর জনগণের পকেট থেকে ভিক্ষুক থেকে শুরু করে এমন কোনও শ্রেণি-পেশার মানুষ নাই, যাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করা হয় না। আরেকদিকে পরোক্ষ কর ও প্রত্যক্ষ কর—নানাভাবে এ দেশের মানুষ আজকে দিশেহারা।’
সরকার পরিবর্তনের পর মানুষের প্রত্যাশার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘মানুষ স্বাভাবিকভাবে প্রত্যাশা করেছিল যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ দেশের মানুষের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচিত হবে। তারা লক্ষ্য করবে যে আমাদের দুর্দিন হয়তো দূর হবে। কিন্তু গতকালও, গত পরশুদিন আমি আমার গ্রামে গিয়েছিলাম। দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে সেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতার লাইন।’
তিনি বলেন, ‘এমন কোনও অফিস-আদালত নাই, এমন কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নাই, এমন কোনও সেক্টর নাই—যা একদিকে ফ্যাসিস্ট আমলে যেরকমভাবে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে, মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে উঠে আসার জন্য যে পরিকল্পনা, যে সুচিন্তা প্রয়োজন, সেই দৃশ্য আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা উদ্ধৃত করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘জনগণ মনে করে যে সরকারের অবস্থা এরকম—যে নদী হারায়ে স্রোত, চলিতে না পারে, সহস্র শৈবাল দাম বাঁধে আসি তারে।’
সরকারের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার এখন কী কী করছে? দেখা যাচ্ছে, সারা দেশে এত অপকর্ম প্রতিনিয়ত হয়। শিবিরের একজনের কোথায় কী সামান্য কিছু হয়েছে, সেটা তিলকে তাল করে কীভাবে জাতিকে বিভ্রান্ত করা যায়, সেই অপচেষ্টা চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই জানি প্রতিবছর যে অডিট প্রতিবেদন দেওয়া হয়, সেই প্রতিবেদনের আলোকে এই সমস্ত রিপোর্ট কখনও বাস্তবায়ন হয় না, আলোর মুখ দেখে না। কারণ অন্যায় করো, লুটপাট করো, ধান্দাবাজি করো, লুটেপুটে খাও—কোনও সমস্যা নাই।’
সবশেষে সরকারের সুদহারের সমালোচনা করে আবারও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা উদ্ধৃত করেন ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
তিনি বলেন, ‘বাধ্যতামূলক ব্যয় মেটাতে আজকে উচ্চ সুদহারে ঋণ গ্রহণ করা হচ্ছে কঠোর বৈদেশিক নীতি অনুযায়ী। এই সুদের মাধ্যমে কী করা হচ্ছে, আবার ওই কথা মনে পড়ল। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন—শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, বুঝেছ উপেন, এ জমি লইব কিনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশের অবস্থা কোথায় নিয়ে যাচ্ছি আমরা? পুরো জাতিটাকে ঋণজর্জরিত করার মধ্য দিয়ে একটি লুটপাটের বাজেট দিয়ে কীভাবে নেতাকর্মীরা লাভবান হবে, সেই চিন্তা-চেতনা থেকে আজকের এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’