ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুল পড়ছে? কখন সতর্ক হবেন, কী করবেন


August 3, 2026 8:25 am
Link Copied!


চুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, আত্মবিশ্বাসেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই চুল পড়তে শুরু করলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়েন। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—প্রতিদিন কিছু চুল পড়া একেবারেই স্বাভাবিক। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়তে পারে। সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন নতুন চুল গজানোর তুলনায় চুল পড়ার হার বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে চুল পাতলা হতে থাকে।

কেন চুল পড়ে?

চুল পড়ার কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বংশগত প্রবণতা, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, রক্তশূন্যতা, আয়রন বা বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতি, সন্তান জন্মের পর শরীরের হরমোনগত পরিবর্তন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা কিংবা মাথার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা—এসবই চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

তাই শুধু তেল, শ্যাম্পু বা বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করলেই হবে না। চুল পড়ার পেছনে শরীরের ভেতরের কোনো কারণ আছে কিনা, সেটিও খুঁজে বের করা জরুরি।

চুল পড়া কমাতে কী করবেন?

সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এসবই চুল সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

আধুনিক চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা

বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসায় শুধু ওষুধ নয়, দেহের নিজস্ব পুনর্জন্মক্ষমতাকে কাজে লাগানো আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতিও ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে প্লেটলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা, প্লেটলেটসমৃদ্ধ ফাইব্রিন এবং এক্সোজোম থেরাপি উল্লেখযোগ্য।

প্লেটলেটসমৃদ্ধ প্লাজমা

এই পদ্ধতিতে রোগীর নিজের রক্ত থেকে প্লেটলেটসমৃদ্ধ অংশ আলাদা করে মাথার ত্বকে প্রয়োগ করা হয়। প্লেটলেটে থাকা বিভিন্ন বৃদ্ধিসহায়ক উপাদান নিষ্ক্রিয় চুলের গোড়াকে সক্রিয় করতে, চুল পড়া কমাতে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ের চুল পড়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্লেটলেটসমৃদ্ধ ফাইব্রিন

এটি পুনর্জন্মভিত্তিক চিকিৎসার আরও উন্নত একটি পদ্ধতি। রোগীর নিজের রক্ত থেকেই কোনও রাসায়নিক মিশ্রণ ছাড়াই এটি প্রস্তুত করা হয়। এতে স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া ফাইব্রিনের জালের মধ্যে প্লেটলেট, শ্বেত রক্তকণিকা এবং বিভিন্ন বৃদ্ধিসহায়ক উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে নিঃসৃত হয়।

এর ফলে দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় চুলের গোড়া পুনরুজ্জীবিত হতে পারে, মাথার ত্বকের পরিবেশ উন্নত হয় এবং নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া উৎসাহিত হয়। এতে চুলের ঘনত্ব, গুণগত মান এবং গোড়ার স্বাস্থ্য উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এক্সোজোম থেরাপি

চুলের চিকিৎসায় এক্সোজোম থেরাপি তুলনামূলক নতুন এবং সম্ভাবনাময় একটি পদ্ধতি। এক্সোজোম হলো অতি ক্ষুদ্র জৈব কণা, যা কোষের মধ্যে বিভিন্ন বার্তাবাহক উপাদান ও বৃদ্ধিসহায়ক উপাদান বহন করে।

এগুলো চুলের গোড়ার পুনর্জীবনে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং নতুন চুল গজানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি এখনও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি। এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা চলমান।

শেষকথা

চুল পড়া মানেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়তে থাকলে বা মাথার চুল দৃশ্যমানভাবে পাতলা হয়ে গেলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারণ, সঠিক সময়ে কারণ শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুল পড়া নিয়ন্ত্রণে আনা এবং চুলের ঘনত্ব ও স্বাস্থ্য অনেকটাই ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সুস্থ জীবনযাপন, বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা—এই তিনটির সমন্বয়ই হতে পারে সুস্থ, ঘন ও সুন্দর চুলের অন্যতম চাবিকাঠি।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html