ঢাকাWednesday , 16 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এক মুঠো বালিতেই ফিরুন ছোটবেলার আনন্দে


August 11, 2026 3:20 pm
Link Copied!


সমুদ্রসৈকতে গিয়ে বালিতে পা ডোবানোর আনন্দই আলাদা। ঢেউয়ের শব্দ, নোনা হাওয়া আর পায়ের নিচে নরম বালির স্পর্শ সব মিলে তৈরি হয় অন্য রকম এক অনুভূতি। তবে বালিতে খেলার জন্য সমুদ্রসৈকতই যে চাই, তা নয়। বাড়ির উঠোনের ছোট্ট বালির জায়গাতেও কল্পনার রাজ্য তৈরি করা যায়। আর সেই সহজ-সরল আনন্দকেই উদ্‌যাপন করা হয় প্রতি বছর ১১ আগস্ট ‘প্লে ইন দ্য স্যান্ড ডে’-তে।

দিনটি মূলত খালি পায়ে বালিতে হাঁটা, খেলাধুলো করা এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে বালিকে নতুন রূপ দেওয়ার আনন্দকে সামনে আনে। বালি দিয়ে দুর্গ বানানো থেকে শুরু করে নানা নকশা তৈরি, গুপ্তধন খোঁজা কিংবা বালির ওপর নিজের নাম লিখে ঢেউয়ের হাতে তা মুছে যেতে দেখা সবই হতে পারে এই দিনের উদ্‌যাপনের অংশ।

বালিতে খেলা নিছক সময় কাটানো নয়। প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি নিজের কল্পনাশক্তিকে কাজে লাগানোরও সুযোগ তৈরি করে এটি। এক মুঠো বালি কারও হাতে হয়ে উঠতে পারে আকাশছোঁয়া মিনার, আবার কারও কল্পনায় তৈরি হতে পারে বিশাল এক রাজ্য। তাই বালির খেলায় কোনও বাঁধাধরা নিয়ম নেই, কল্পনাই এখানে সবচেয়ে বড় উপকরণ।

বালিতে খেলার ইতিহাস কত পুরনো

‘প্লে ইন দ্য স্যান্ড ডে’-র সঠিক সূচনা কবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে বালির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যে হাজার হাজার বছরের পুরনো, তার প্রমাণ রয়েছে। প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার বছর আগের বালিতে পাওয়া মানুষের পায়ের ছাপও প্রকৃতির এই বালুকাময় প্রান্তরের সঙ্গে মানুষের দীর্ঘ সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করে।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমুদ্রসৈকত, নদীর তীর কিংবা মরুভূমির বালুকাবেলা মানুষের খেলা ও সৃজনশীলতার জায়গা হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে সেই খেলার ধরনও বদলেছে।

২০ শতকের গোড়ার দিকে সমুদ্রসৈকতে বালিতে খেলা জনপ্রিয় অবসরযাপনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠে। ১৯০২ সালে বালির দুর্গ তৈরির ছাঁচের পেটেন্ট নেওয়ার পর এই খেলায় আসে আরও বৈচিত্র্য। ছাঁচের সাহায্যে সহজেই বালি দিয়ে নানা আকৃতি ও জটিল নকশা তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় বালির দুর্গ বানানো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এর ফলে বালিতে খেলা শুধু শিশুদের সময় কাটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে আনন্দ করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও এটি জায়গা করে নেয়।

আজ বালিতে আনন্দ করার দিন। ছবি: সংগৃহীত।

বালি শুধু খেলার উপকরণ নয়

বালির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে ১৯১৪ সালে। সুইস মনোবিশ্লেষক কার্ল ইয়ুংয়ের কাজের সূত্র ধরে স্যান্ড প্লে থেরাপির ধারণা বিকশিত হয়। বালি দিয়ে বিভিন্ন দৃশ্য তৈরি ও সেগুলিকে নিজের মতো করে সাজানোর মাধ্যমে অবচেতন মনের নানা দিক বোঝার চেষ্টা করা হয়।

অর্থাৎ বালি শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়, আত্মপ্রকাশ ও সৃজনশীলতারও একটি মাধ্যম। বালির স্পর্শ মনকে শান্ত করার পাশাপাশি কল্পনাশক্তিকে সক্রিয় করতে পারে।

১৯৫০-এর দশকে বালিতে খেলার জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে আরও বেশি। শিশুদের জন্য তৈরি হতে থাকে বালিতে খেলার নানা ধরনের খেলনা। একই সময়ে পার্ক, খেলার মাঠ এবং বাড়ির উঠোনে স্যান্ডবক্স জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শিশুদের কল্পনার জগৎ তৈরির জন্য আলাদা জায়গা করে দেয় এই স্যান্ডবক্স।

এর পর বালির খেলা পৌঁছে যায় শিল্পের জগতেও। ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক স্যান্ড স্কাল্পটিং ফেস্টিভ্যাল বা বালুভাস্কর্য উৎসব। সেখানে শিল্পীরা বালি দিয়ে তৈরি করেন নানা আকৃতির অসাধারণ ভাস্কর্য। এর ফলে বালি শুধু খেলার উপকরণ নয়, সৃজনশীল শিল্পচর্চার মাধ্যম হিসেবেও পরিচিতি পায়।

কী ভাবে উদ্‌যাপন করবেন দিনটি

‘প্লে ইন দ্য স্যান্ড ডে’-তে ছোটবেলার আনন্দে ফিরে যেতে খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সমুদ্রসৈকতে গেলে বালতি, কোদাল কিংবা কয়েকটি ছোট খেলনা নিয়েই শুরু করতে পারেন বালির দুর্গ তৈরির খেলা। কেউ তৈরি করতে পারেন রাজপ্রাসাদ, কেউ দুর্গ, আবার কেউ হয়তো বানিয়ে ফেলবেন নিজের কল্পনার পুরো একটি শহর।

বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজন করা যায় গুপ্তধন খোঁজার খেলাও। বালির নিচে লুকিয়ে রাখা যেতে পারে ছোট খেলনা, রঙিন পাথর বা অন্য কোনও নিরাপদ বস্তু। এরপর শুরু হবে সেই ‘ধন’ খোঁজার পালা। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এতে মেতে উঠতে পারেন।

বালির ওপর শুয়ে তৈরি করা যায় ‘স্যান্ড অ্যাঞ্জেল’। জলের ধারে ভেজা বালিতে লিখে ফেলতে পারেন নিজের নাম, কোনও বার্তা কিংবা আঁকতে পারেন ছবি।

সমুদ্রের কাছে যেতে না পারলেও চলবে

সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও ‘প্লে ইন দ্য স্যান্ড ডে’ উদ্‌যাপন করা যায়। বাড়ির উঠোনে শিশুদের ছোট প্লাস্টিকের পুলে বালি ভরে তৈরি করা যায় অস্থায়ী স্যান্ডবক্স। সেখানেই চলতে পারে দুর্গ বানানো, ভাস্কর্য তৈরি কিংবা কল্পনার রাজ্য গড়ার খেলা।

আর যদি সমুদ্রের কাছে থাকার সুযোগ থাকে, তবে খুব সহজ একটি কাজও করতে পারেন। খালি পায়ে সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে বালির ওপর তৈরি করুন পায়ের ছাপের পথ। কিছুক্ষণ পর ঢেউ এসে সেই ছাপ মুছে দেবে। আপনার উপস্থিতির চিহ্ন থাকবে না, কিন্তু থেকে যাবে একটি সুন্দর স্মৃতি।

এক মুঠো বালিতে এত আনন্দ কেন

বালিতে খেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। একটি বালির স্তূপ কারও কাছে দুর্গ, কারও কাছে পাহাড়, আবার কারও কাছে হয়ে উঠতে পারে একটি পুরো রাজ্য। বালি তাই শুধু খেলার উপকরণ নয়, কল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার এক সহজ মাধ্যম।

তাই ১১ অগস্ট সমুদ্রসৈকতে থাকুন কিংবা বাড়ির উঠোনে, কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যেতে পারেন ব্যস্ততার কথা। খালি পায়ে বালিতে হাঁটুন, দুর্গ বানান, পায়ের ছাপ রেখে আসুন কিংবা বালিতে লিখে দিন মনের কোনও কথা।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html