ঢাকাWednesday , 16 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমুদ্রের হাওয়ায় সামুদ্রিক স্বাদের খোঁজে ফ্রান্সে


August 11, 2026 4:45 pm
Link Copied!


ফ্রান্সের উত্তর উপকূলে সমুদ্রভ্রমণ মানেই শুধু নীল জল, বালুকাবেলা আর উপকূলের সৌন্দর্য নয়। এই অঞ্চলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মাছ ধরা, স্থানীয় বাজার এবং সামুদ্রিক খাবারের দীর্ঘ ঐতিহ্য। সেই স্বাদ ও সংস্কৃতির সন্ধানেই ঘুরে দেখা যেতে পারে কোত দ’ওপাল—কালে থেকে ল্য তুকে পর্যন্ত বিস্তৃত ফ্রান্সের মনোরম উপকূলীয় অঞ্চল।

এই যাত্রার শুরু হতে পারে বুলোন-সুর-মের থেকে। ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় মাছ ধরার বন্দর হিসেবে পরিচিত এই শহরের সকালের মাছের বাজারে সমুদ্রের তাজা সম্ভার নিয়ে হাজির হন স্থানীয় জেলে ও মাছ বিক্রেতারা। বাজারটি খুব বড় নয়, এমনকি বন্দর এলাকার একটি সাধারণ পার্কিংয়ের পাশে হওয়ায় প্রথম দেখায় বিশেষ আকর্ষণীয়ও মনে হতে পারে। কিন্তু পসরা সাজানো শুরু হলেই বদলে যায় দৃশ্যপট।

হালকা নীল রঙের স্টলে স্থানীয় জেলেদের আনা মাছ, আর গাঢ় নীল স্টলে ব্যবসায়ীদের সাজানো সামুদ্রিক খাবার মিলে বাজারটি হয়ে ওঠে সমুদ্রের তাজা স্বাদের এক ব্যস্ত কেন্দ্র। কাঁকড়া, সোল, লবস্টার থেকে শুরু করে নানা ধরনের মাছ ও শেলফিশ পাওয়া যায় এখানে। দামও তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় ইংলিশ চ্যানেলের ওপার থেকেও অনেকে ঠান্ডা রাখার ব্যাগ নিয়ে বাজার করতে আসেন।

কোথাও দেখা যায় ফিলে করা রুসেত বা ডগফিশ, আবার কোনও স্টলে দক্ষ হাতে কাটা হচ্ছে বিশাল আকারের মঙ্কফিশ। মাছটির সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অংশগুলোর একটি, গালের মাংস, আলাদা করে নেওয়া হয় বিশেষ যত্নে। বাজারের এমন দৃশ্যই বোঝায়, ফ্রান্সের উপকূলীয় রন্ধনশৈলীর শুরুটা আসলে রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে নয়, সমুদ্র থেকে জেলেদের নৌকায়।

বুলোন থেকে শুরু করে এই সামুদ্রিক স্বাদের যাত্রা এগিয়ে যেতে পারে কোত দ’ওপাল ধরে। সাদা চুনাপাথরের খাড়া পাহাড়, বালিয়াড়ি, বনভূমি ও দীর্ঘ উপকূলরেখা মিলিয়ে অঞ্চলটি প্রকৃতি ও খাবারের এক অনন্য সমন্বয় তৈরি করেছে।

অদ্রেসেলে সমুদ্রের স্বাদ: উপকূলীয় সড়ক ধরে বুলোন থেকে দক্ষিণে এগোলে পৌঁছানো যায় ছোট্ট মাছধরা গ্রাম অদ্রেসেল-এ। লে শাটল টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৫ মিনিটের পথ পেরিয়ে পৌঁছানো এই গ্রামটি শান্ত পরিবেশ ও সামুদ্রিক খাবারের জন্য বেশ আকর্ষণীয়।

এখানকার পরিচিত রেস্তোরাঁ লা মারি গালান্ত পরিচালনা করেন দুই বোন বিয়াত্রিস ও গোদেলিন কুভেলিয়ে। ঘরোয়া পরিবেশের এই রেস্তোরাঁয় মেনুর অন্যতম আকর্ষণ রেজর ক্ল্যাম। রসুন ও পার্সলির সঙ্গে রান্না করা এই সামুদ্রিক খাবারের পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় ফরাসি উপকূলীয় রান্নার জনপ্রিয় পদ ফ্রুই দ্য মের।

এক প্লেটেই থাকে ঝিনুক, সামুদ্রিক শামুক, বড় আকারের চিংড়ি ও অর্ধেক কাঁকড়া। তবে এই খাবারের সৌন্দর্য শুধু স্বাদে নয়, খাওয়ার অভিজ্ঞতাতেও। টেবিলজুড়ে কাঁকড়ার শক্ত নখর ভাঙার শব্দে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।

উইমরুতে খাবারের সঙ্গে সূর্যাস্ত: উপকূল ধরে আরও এগোলেই আসে উইমরু। উনিশ শতকের বিচিত্র স্থাপত্য, দীর্ঘ সৈকত ও সমুদ্রের আবহে শহরটি ফ্রান্সের উত্তর উপকূলের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এখানে হোটেল ল’আটলান্টিক-এর রেস্তোরাঁয় খাবারের অভিজ্ঞতার সঙ্গে যোগ হয় সমুদ্রের দৃশ্য। শেফ বেঞ্জামিন দেলপিয়ের ও তার স্ত্রী অরেলির সঙ্গে যুক্ত এই রেস্তোরাঁটি একসময় মিশেলিন তারকা পেয়েছিল। পরে সেই তারকা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলে রান্নায় আরও স্বাধীনভাবে নিজস্ব ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।

মেনুতে থাকতে পারে চিংড়ির ক্রোকেট, সঙ্গে কারি-স্বাদের বিটরুট পিউরি। এরপর রোস্ট কড ফিলে, সেলারি ক্রিম ও সমৃদ্ধ চিকেন জুসের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। তবে খাবারের স্বাদের পাশাপাশি এখানকার অন্যতম আকর্ষণ ইংলিশ চ্যানেলের ওপর সূর্যাস্ত।

এৎপলে-সুর-মেরে সমুদ্রের ইতিহাস: পরের গন্তব্য ল্য তুকে। দীর্ঘ বালুকাবেলা, পাইনবন ও গলফ কোর্সের জন্য পরিচিত এই শহরটি ব্রিটিশ পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগে পাশের এৎপলে-সুর-মের ঘুরে দেখা যেতে পারে।

কঁশ নদীর ওপারে অবস্থিত এই শহরের অন্যতম আকর্ষণ মারেইস। এটি একাধারে প্রদর্শনীকেন্দ্র ও অ্যাকুয়ারিয়াম, যেখানে উত্তর সাগর ও ইংলিশ চ্যানেলের মাছ ধরা এবং তার সঙ্গে যুক্ত ফরাসি উপকূলীয় জীবনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

ইন্টার‌্যাকটিভ ও ইমার্সিভ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এখানে দেখানো হয় সমুদ্র থেকে কী ধরনের মাছ ধরা হয় এবং সেই মাছ ধরার সঙ্গে উপকূলীয় মানুষের জীবন কীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। ফরাসি ও ইংরেজি দুই ভাষায় তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। মাথার ওপর থাকা অ্যাকুয়ারিয়ামে মাছের সাঁতার, আবার বিশাল ট্যাংকে রে মাছের ধীর গতিতে ভেসে চলা দর্শনার্থীদের সামনে খুলে যায় সমুদ্রের এক জীবন্ত জগৎ।

ল্য তুকে, সমুদ্রের পাশে শেষ স্বাদ: ল্য তুকে পৌঁছে দীর্ঘ বালুকাবেলা ও পাইনবনের পাশাপাশি পাওয়া যায় সামুদ্রিক খাবারের আরও এক আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা। শহরের একটি রেস্তোরাঁয় পুরো গ্রিল করা সি ব্রিম হতে পারে দিনের অন্যতম সেরা পদ। নিখুঁতভাবে গ্রিল করা তাজা মাছের স্বাদে আলাদা কোনও বাড়তি আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে না।

দিন শেষে ল্য তুকের সমুদ্রতটে সূর্যাস্ত যেন এই সামুদ্রিক অভিযানের স্বাভাবিক সমাপ্তি। উইমরুর মতো এখানেও সন্ধ্যার আলোয় বালি ও সমুদ্র বদলে যায় উষ্ণ সোনালি রঙে।

বুলোনের মাছের বাজার থেকে অদ্রেসেলের ছোট্ট রেস্তোরাঁ, উইমরুর সমুদ্রের ধারে রাতের খাবার, এৎপলে-সুর-মেরে মাছ ধরার ইতিহাস আর ল্য তুকের সৈকত সব মিলিয়ে কোত দ’ওপাল শুধু ফ্রান্সের একটি উপকূল নয়, এটি সমুদ্র, খাবার, ইতিহাস ও প্রকৃতির মিলিত এক ভ্রমণকাহিনি।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html