ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা নতুন নয়। তবে এক ম্যাচে ৫৩ জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের ঘটনা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যে অনূর্ধ্ব-২০ দলের এক সেমিফাইনালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে এমন কাণ্ড ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখার পর শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়।
রবিবার স্থানীয় অনূর্ধ্ব-২০ প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল মামোরে ও উবেরল্যান্ডিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে মামোরে ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরই শুরু হয় উত্তেজনা। গোল উদযাপনের সময় প্রতিপক্ষের ডাগআউটের দিকে ইঙ্গিত করে উসকানিমূলক আচরণ করেন মামোরের দাভি। অভিযোগ, তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে ঢুকে পড়েন উবেরল্যান্ডিয়ার গোলরক্ষক কোচ পাওলো সার্জিও দিয়াস দস সান্তোস। এরপর দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ।
রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোসঘিক মোদেস্তোর অফিশিয়াল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পর তিনি একসঙ্গে ৪৮টি লাল কার্ড দেখান। ম্যাচের আগেই আরও তিন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বহিষ্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১। এখানেই শেষ নয়, উবেরল্যান্ডিয়ার পরিচালনা পর্ষদের আরও দুজন সদস্যকেও বহিষ্কার করেন রেফারি। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৫৩।
এই সংখ্যা ফুটবল ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ড দেখানোর বিদ্যমান গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের দল অ্যাতলেতিকো ক্লায়পোলে ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের ম্যাচে ৩৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেটিই এত দিন সর্বোচ্চ সংখ্যক লাল কার্ডের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল।
ব্রাজিলের ম্যাচটির পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে রেফারির অভিযোগে। তার দাবি, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরনের সহিংসতার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মাঠের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তারা ৪০ মিনিট চেষ্টা করেন। পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে মাঠের বাইরেও উত্তেজনা থামেনি। উবেরল্যান্ডিয়ার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামোরের সরঞ্জাম নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, স্বাগতিক দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে সফরকারী দলের ব্যবহৃত ড্রেসিংরুম ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।