চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পারস্য উপসাগরে একের পর এক হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার মধ্যেই কাতারে অবরুদ্ধ থাকা ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) মার্কিন ডলারের ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার তিনি এই কথা জানান।
মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই তহবিলের কথা উল্লেখ করার মূল উদ্দেশ্য হলো অন্তর্বর্তী চুক্তিটির বিষয়ে ইরানের জনগণকে আশ্বস্ত করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ যখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখন তিনি এই ঘোষণা দিলেন। পারস্য উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ট্রাফিকের জন্য ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টার কারণে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর আগে শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট ব্যবসা হওয়া তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই প্রণালিটিতে ইরানের হামলা এবং হুমকির কারণে কার্গো জাহাজ ও ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি করে।
হরমুজ প্রণালিটি ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ওমান অংশের কাছাকাছি একটি রুটে চলাচলকারী জাহাজে ইরান দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এই যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে অবসানের আলোচনা ব্যাহত হতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই গত রবিবার বাহরাইন ও কুয়েত লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।
এই সংকটে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হবে। ট্রাম্প প্রশাসনও গত রবিবার জানিয়েছে, কোনও আলোচনা বাতিল করা হয়নি এবং আগামী দিনগুলোতে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইরান এই আলোচনায় অংশ নেবে কিনা, তা এখনও জানায়নি।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাতে সোমবার প্রকাশিত মন্তব্যে অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রশংসা করে মাসুদ পেজেশকিয়ান এটিকে ‘ইরানি জনগণের জন্য একটি বিরাট বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাতারে থাকা ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ তবে এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আর কোনও ব্যাখ্যা দেননি।
ইরানে একজন সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত মাসুদ পেজেশকিয়ানই এখন পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, যিনি কাতারে আটকে থাকা এই তহবিল ছাড়ের কথা উল্লেখ করলেন। এই আলোচনা ও মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের পাশাপাশি কাতারও অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বলছেন, ইরানের কোনও অবরুদ্ধ সম্পদ এখনও ছেড়ে দেওয়া হয়নি। কাতারও এই ধরনের কোনও তহবিল স্থানান্তরের কথা স্বীকার করেনি। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পারস্য উপসাগরের পাল্টাপাল্টি হামলার সময় কাতারি অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কারেও হামলা চালিয়েছে ইরান।
সূত্র: এপি