ঢাকাWednesday , 22 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তীব্র ব্যায়াম কি কর্টিসলের মাত্রা বাড়ায়


July 22, 2026 6:15 pm
Link Copied!


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্টিসল নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অনেক ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সার এই ‘স্ট্রেস হরমোন’কে মুখ ফোলা, পেটে অতিরিক্ত মেদ, ক্লান্তি, অবসাদ এমনকি বার্নআউটের মতো সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করছেন। পাশাপাশি কর্টিসলের মাত্রা কমানোর নানা উপায়ও প্রচার করা হচ্ছে।

তাদের অনেকের দাবি, উচ্চমাত্রার বা দীর্ঘ সময়ের অ্যারোবিক ব্যায়াম শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং এর ফলে কর্টিসলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ভারী ওজন তোলার ব্যায়ামও একই ধরনের প্রভাব ফেলে বলে অনেকে মনে করেন। এ কারণে কঠোর ব্যায়ামের পরিবর্তে হাঁটা, যোগব্যায়াম ও পিলাটিসের মতো কম তীব্রতার শরীরচর্চার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কর্টিসলের ভূমিকা নিয়ে এসব ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। তাদের মতে, ব্যায়ামের সময় কর্টিসলের সাময়িক বৃদ্ধি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার অংশ এবং তা সবসময় ক্ষতিকর নয়।

মাউন্ট সিনাইয়ের আইকান স্কুল অব মেডিসিনের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ও সহকারী অধ্যাপক ডা. লেনা ফ্যান  বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্টিসল শব্দটিকে ‘স্ট্রেস’-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু কর্টিসল মানেই সবসময় স্ট্রেস নয়।”

ব্যায়াম ও কর্টিসল নিয়ে বিজ্ঞান কী বলছে, তা জানতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

সুস্বাস্থ্যের জন্য কর্টিসল গুরুত্বপূর্ণ

কর্টিসলের প্রধান কাজ হলো শরীরকে চাপ বা প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। শরীর যখন কোনও ধরনের চাপের মধ্যে পড়ে, তখন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে এই হরমোন নিঃসৃত হয়। এর ফলে শরীরে তৈরি হয় ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ বা ‘লড়াই অথবা পালিয়ে বাঁচার’ প্রতিক্রিয়া।

কর্টিসল পেশিতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি জোগায়। এটি শরীরের দ্রুত ব্যবহারযোগ্য কার্বোহাইড্রেটকে জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করে।

ডা. লেনা ফ্যান বলেন, এসব প্রক্রিয়া শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কেউ যদি আপনাকে তাড়া করে এবং দ্রুত দৌড়ে পালাতে হয়, তখন কর্টিসলের এই কার্যক্রম শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও সক্ষমতা দিতে সাহায্য করে।

কর্টিসল শরীরকে সংক্রমণ ও প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

সাধারণত দিনের বিভিন্ন সময়ে কর্টিসলের মাত্রা ওঠানামা করে। ঘুম থেকে ওঠার সময় এর মাত্রা বাড়ে এবং ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ধীরে ধীরে কমে আসে, যাতে শরীর বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

কর্টিসলজনিত সমস্যা বিরল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বেশি থাকা কর্টিসলকে সাধারণ সমস্যা হিসেবে তুলে ধরা হলেও বাস্তবে কর্টিসলজনিত রোগ বা সমস্যা বেশ বিরল বলে জানান ডা. লেনা ফ্যান।

তার মতে, মাত্র প্রায় ১ শতাংশ মানুষের কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি থাকে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলেও কর্টিসলের মাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই থাকে।

উত্তর ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সারসাইজ ফিজিওলজির ইমেরিটাস অধ্যাপক অ্যান্থনি হ্যাকনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রায়ই বাদ পড়ে যায়। তার মতে, শরীরে চাপ তৈরি হলে শুধু কর্টিসল নয়, অ্যাড্রেনালিনসহ আরও অনেক হরমোন একসঙ্গে নিঃসৃত হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব হরমোনের মাত্রা বেশি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য হৃদ্‌রোগসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে এসব সমস্যার একমাত্র কারণ কর্টিসল নয়। একইভাবে, উচ্চমাত্রার ব্যায়াম এড়িয়ে চলাই এর সমাধান—এমন ধারণাও সঠিক নয়।

কঠোর ব্যায়াম দীর্ঘমেয়াদে কর্টিসল কমাতে পারে

ব্যায়ামের চাপ শরীরকে কর্টিসল নিঃসরণের সংকেত দেয়। যত বেশি শারীরিক পরিশ্রম করা হয়, তত বেশি কর্টিসল নিঃসৃত হতে পারে। তবে ব্যায়ামের সময় এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং প্রয়োজনীয় বলে জানান ডা. অ্যান্থনি হ্যাকনি।

তার মতে, ব্যায়ামের সময় কর্টিসল পেশিতে বেশি অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, যা শরীরকে শারীরিক পরিশ্রম চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

ব্যায়ামের পর কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত কর্টিসলের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে শরীর বিশ্রাম নেওয়া, শক্তি পুনরুদ্ধার এবং পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণের পর এর মাত্রা আবার কমে আসে। অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যায়ামের আগের মাত্রার চেয়েও নিচে নেমে যেতে পারে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীর যখন কঠোর ব্যায়ামের সঙ্গে মানিয়ে নেয়, তখন স্বাভাবিক অবস্থার কর্টিসলের মাত্রাও কমতে পারে।

ডা. লেনা ফ্যান বলেন, “এটি অনেকটা পেশি তৈরি করার মতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি আপনার শরীরকে আরও বেশি সহনশীল ও মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী করে তুলছেন।”

ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কাইনেসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক স্টুয়ার্ট ফিলিপস বলেন, অত্যন্ত কঠোর ব্যায়ামের সময়ও সাধারণত কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার মধ্যেই থাকে।

পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রাম জরুরি

ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের উইমেনস ইন্টিগ্রেটেড স্পোর্ট, এক্সারসাইজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের সহ-পরিচালক ডা. মেরি শেফার বলেন, কঠোর ব্যায়াম যাতে মানসিক চাপ কমাতে এবং কর্টিসলের স্বাভাবিক মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, তার জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রাম প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না দেওয়া এবং ব্যায়ামের পর পর্যাপ্ত পুনরুদ্ধারের সময় না দিলে অতিরিক্ত ব্যায়ামের উপকারিতা কমে যেতে পারে।

ডা. শেফারের মতে, পর্যাপ্ত খাবার—বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট—না খেয়ে কঠোর ব্যায়াম করলে তা আরও কঠিন মনে হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে কর্টিসলের মাত্রা দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সময় ছাড়া দীর্ঘদিন কঠিন ব্যায়াম চালিয়ে গেলে ব্যায়ামের মানসিক চাপ কমানোর উপকারিতা কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘুম, মানসিক চাপের মাত্রা ও বয়সের ওপর নির্ভর করে শরীরের পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হয়।

যেদিন কঠোর ব্যায়ামের জন্য শরীর প্রস্তুত মনে না হয়, সেদিন হাঁটা, যোগব্যায়াম, পিলাটিস বা তাই চির মতো কম তীব্রতার ব্যায়ামও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ভালো রাখতে এবং কর্টিসলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেষ পর্যন্ত নিজের শরীরের সংকেত বুঝে চলার পরামর্শ দিয়েছেন স্টুয়ার্ট ফিলিপস। তিনি বলেন, “যখন আপনি নিজের সেরা অবস্থায় নেই বলে মনে হবে, তখন নিজের প্রতি একটু সহনশীল ও যত্নশীল থাকুন।”

তবে শুধু কর্টিসলের ভয়ে উচ্চমাত্রার ইন্টারভাল ট্রেনিং (এইচআইআইটি) বা দীর্ঘ সময়ের দৌড়ের মতো ব্যায়াম বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html